ক্যাটাগরি "ধুনট"

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: দরপত্র ছাড়াই বগুড়ার ধুনটে প্রস্তাবিত আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ২শ’টি সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। গোসাইবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন বাদি হয়ে গত বুধবার রাতে থানায় এ মামলা দায়ের করেন।


গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের দিকে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কাটা গাছের ১৫টি অংশ জব্দ করেছে। তবে এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। গত ৯ আগস্ট করতোয়ায় ভিডিও প্রতিবেদন ও ১০ আগস্ট করতোয়া পত্রিকায় গাছ খেকোদের নাম পরিচয়সহ প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ মামলা দায়ের করা হয়। কিন্ত ওই মামলায় আসামীদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।     
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়েনের চুনিয়াপাড়া গ্রামে মানাস নদীর তীরে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রায় ৪ বিঘা আয়তনের সরকারি ওই জায়গাতে বিভিন্ন জাতের শত শত কাঠ গাছ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন আগে ওই গাছগুলো রোপন করেছিলেন।

এ অবস্থায় ৮ আগস্ট দিনের বেলায় চুনিয়াপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ২০০টি গাছ কেটে বিক্রি করেছেন সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ওই গাছগুলো কিনে নিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। তার কারখানায় (স মিলে) গাছের কাটা অংশ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে করা মামলায় আসামীর নাম উল্লেখ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে এ সব ব্যক্তিদের সনাক্তের মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। ইতিমধ্যে কাটা গাছের অংশ জব্দ করা হয়েছে।

ধুনট প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনটে নিজের নবজাতক শিশু সন্তানকে হত্যার পর ট্যাংকিতে ফেলে দেয়া মা আদুরী খাতুনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদুরী খাতুন তার নিজের শিশু সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 


এছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করার অপরাধে কেছেম (৪৫) নামে এক ভুয়া কবিরাজকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ওই কবিরাজকে রবিবার ধুনট থানা হাজত থেকে বগুড়ার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এরআগে শনিবার বিকেলে আদুরী খাতুনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে নিজের সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। জানা গেছে, পারধুনট গ্রামের হোসেন প্রামানিকের ছেলে অসীমের সঙ্গে ৭ বছর আগে চান্দারপাড়া গ্রামের আয়তুল্লাহ্ মন্ডলের মেয়ে আদুরীর বিয়ে হয়। 


তাদের দাম্পত্য জীবনে ৫ বছর বয়সী এক ছেলের পর এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় আদুরী। কিন্তু শিশুটির ফুসফুসে ফুটো রয়েছে বলে ডাক্তার জানায়। এরপর গত ১৬ জুলাই আদুরী তার এক মাস আট দিন বয়সী শিশুকে চিকিৎসা না করিয়ে বাবার বাড়ি চান্দারপাড়া গ্রামে চলে আসে এবং বাচ্চাটিকে কবিরাজী চিকিৎসার জন্য পাশ্ববর্তী কবিরাজ কেছেমের শরণাপন্ন হয়। গত ১৭ জুলাই সকাল ৯টার দিকে শিশুটির বাবা অসীম, নানী চম্পা খাতুন ও মা আদুরী খাতুন কবিরাজের বাড়িতে গেলে কেছেম কবিরাজ তাদেরকে কলাপড়া, ফিটকারী পানি পড়া, তেলপড়া সহ তাবিজ দেয়। 


এরপর বিকেল ৫টার দিকে আদুরী খাতুন কবিরাজের দেয়া ফিটকারী পানি নিজে খায় এবং শিশুটিকে খাওয়ায়। এরপর শিশুটি আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন শিশুটি মারা গেছে ভেবে আদুরী খাতুন তার মায়ের বাড়ির ল্যাট্রিনের ট্যাংকির ঢাকনা খুলে শিশুটিকে সেখানে ফেলে দেয়। এরপর শিশুকে জিনে নিয়ে গেছে বলে নাটক সাজায় আদুরী। পরে স্থানীয় লোকজক অনেক খোজাখুজির পর ১৮ জুলাই বিকেলে ল্যাট্রিনের ট্যাংকি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা 


অসীম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শেষে শনিবার শিশুটির মা আদুরীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করে নেয়। এরপর এই হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা এবং ভুয়া চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতারণা করার অপরাধে কবিরাজ কেছেম উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা জানান, নিজের শিশু সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করে শিশুটির মা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এঘটনায় শিশুটির মা ও ভুয়া কবিরাজকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 


 স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১ কেজি গাঁজাসহ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (২৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।


গ্রেফতারকৃত ওই মাদক ব্যবসায়ী ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপি গ্রামের মৃত আবুল মন্ডলের ছেলে। 
বগুড়া ডিবির ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক এতথ্য নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছিল। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধুনট উপজেলার ভূবনগাতী জাঙ্গালপাড়া চারমাথা বাজারের পাকা রাস্তার উপর থেকে এক কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী জাহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
 

 ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্বামীর বাড়ি থেকে ফরিদা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফরিদা খাতুন উপজলার মোহনপুর গ্রামের হাসান আলীর স্ত্রী। সোমবার দুপুর ১টার দিকে গৃহবধূর লাশ ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোহনপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে হাসান আলী গাজিপুর একটি পোশাক কারাখানায় চাকুরি করে। সেখানে চাকুরি করার সময় প্রায় ৭ বছর আগে গাজীপুর এলাকার আব্দুল মজিদের মেয়ে ফরিদার সঙ্গে পরিচয়ের সুত্র ধরে দুজনের বিয়ে হয়। সেখানে তারা দুজন মিলে পোশাক কারাখানায় চাকুরি করতো। 
এ অবস্থায় হাসান আলীর বাবা সাইফুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেবা যত্ন কারার জন্য ফরিদা খাতুনকে চাকুরি ছেড়ে মোহনপুর গ্রামের বাড়িতে ফিরে আনা হয়। কিন্তু ফরিদা খাতুন চাকুরি ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে থাকতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হাসান আলী ছেলে-মেয়ে নিয়ে তার ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ৪টার দিকে মেয়ের কান্নায় ঘুম থেকে জেগে ফরিদাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার লাশ অন্য ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পুরে এ বিষয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার সকাল ৯টার দিকে ফরিদা খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা জানান, ফরিদা খাতুন নামে এক গৃহবধূর লাশ স্বামীর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 




ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন পেয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে লুট করে নেওয়া মালামাল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে করা মামলায় দুই জনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, শেরপুর উপজেলার চকধলী গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে সজিব (২৫) ও চকখাগা গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে রায়হান বাবু (২২)। শুক্রবার দুপুরের পর ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাদর বেগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 
মামলা সূত্রে জানা গেছে, রায়হান বাবু বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে ধুনট উপজেলার ভুবনগাতী বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। এসময় বাজারের ব্যবসায়ীরা তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। রায়হান বাবু নিজের পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে স্থানীয় এক আত্মীয়র বাড়িতে ফিরে যায়। কিন্ত এ ঘটনায় ভুবনগাতী বাজারের ব্যবসায়ীদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে রায়হান বাবু। 
এক পর্যায়ে ওই রাত সাড়ে ৩টার দিকে রায়হান বাবু তার লোকজন নিয়ে ভুবনগাতী বাজারে এসে মাসুদ রানা নামে এক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ব্যবসায়ী মাসুদ রানা জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন করে। পুলিশ ব্যবসায়ী মাসুদ রানার মালামাল জব্দের পর একই সময় রায়হান বাবু ও সজিবকে আটক করে। এ ঘটনায় মাসুদ রানা বাদি হয়ে রায়হান বাবু ও সজিবের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। 
ধুনট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ মিলেছে। দোকান মালিকের করা মামলায় ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনটে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে মারপিট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে আব্দুল আজিজ ওরফে আজিদ (৫০) নামে এক ঘটককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আব্দিুল আজিজ উপজেলার আনারপুর দহপাড়ার মহির আকন্দের ছেলে। 
সোমবার দুপুরের পর ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরআগে রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আব্দুল আজিজ পেশাদার ঘটক। 
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আনারপুর গ্রামের হাচি সেখের ছেলে শিবলু (৩০) দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশি ওই গৃহবধূকে কু-প্রস্তাব দেয়। কিন্ত ওই গৃহবধূ বখাটে শিবলুর কু-প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এতে গৃহবধূর উপর ক্ষুব্ধ হয় শিবলু। এক পর্যায়ে ৩ জুলাই দুপুরের দিকে শিবলু  লোকজন নিয়ে ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় প্রতিবাদ করায় ওই গৃহবধূ ও তার মেয়ে এবং মাকে মারপিটে আহত করে শিবলু ও তার লোকজন। একই সময় তারা গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি করে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর মা বাদি হয়ে রোববার রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় শিবলু ও আব্দুল আজিজসহ ৬ জনকে আসামী করা হয়েছে।  
ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 


চেতনাবার্তা ডেস্ক:
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় শিশু তাবাসসুমকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। আটকরা হলেন উপজেলার নশরতপুর গ্রামের তোজাম্মেল হকের ছেলে বাপ্পী আহম্মেদ, দলিল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে কামাল পাশা, ছানোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম রেজা এবং মৃত সাহেব আলী শেখের ছেলে লাবলু শেখ। এদের মধ্যে বাপ্পী ধুনট জিএমসি ডিগ্রি কলেজের বিএ ২য় বর্ষের ছাত্র, কামাল পাশা পেশায় মুদি দোকানদার, শামীম রেজা রাজমিস্ত্রি এবং লাবলু শেখ রংমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, নিহত তাবাসসুম উপজেলার নশরতপুর গ্রামের বেলাল হোসেন খোকনের মেয়ে। আসামি বাপ্পীর পরিবারের সঙ্গে শিশু তাবাসসুমের বাবার পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ দ্বন্দ্বের জেরে তাবাসসুমকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন বাপ্পী।

জানা গেছে, গত ১৪ ডিসেম্বর নশরতপুর গ্রামে ইসলামী জালসা চলছিল। সেখানে তাবাসসুম তার দাদা-দাদি ও দুই ফুফুর সঙ্গে জালসা যায়। পরে অন্য শিশুদের সঙ্গে পাশের দোকানে বেলুন কিনতে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাপ্পী রাত ৯টার দিকে জালসার পাশের দোকান থেকে বাদাম কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাবাসসুমকে ফুসলিয়ে হাজী কাজেম জুবেদা টেকনিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। সেখানে বাপ্পী, কামাল, শামীম ও লাবলু তাবাসসুমের মুখ চেপে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে নিন্তেজ হয়ে পড়লে বাপ্পী গলাটিপে তাবাসসুমকে হত্যা করে। পরে কাটিং প্লাস দিয়ে হাতের আঙুল কাটে। যাতে সবাই মনে করে কোনো প্রাণীর কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর বাপ্পী তাবাসসুমের মরদেহ কাঁধে করে বাদশা নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশের বাঁশ ঝাড়ে ফেলে রেখে যায়। যাতে বাদশার ছেলে রাতুলকে সবাই সন্দেহ করে। এরপর বাপ্পী বাড়িতে চলে গেলে বাকি তিনজন আসামি জালসায় গিয়ে ভলেন্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, তাবাসসুম বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারের সবাই তাকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে রাত দেড়টার দিকে লোকজন তাবাসসুমের দেহ বাঁশঝাড়ে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে ধুনট থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এসময় তাবাসসুমের যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্ত ঝরছিল এবং বুকে ও গালে কামড়ের দাগ ছিল। পরে ১৫ ডিসেম্বর তাবাসসুমের বাবা খোকন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদের তত্ত্বাবধানে এবং শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম নিরসলভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। পরে গতকাল শুক্রবার রাতে আসামিদের আটকপূর্বক ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাবাসসুমকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে। আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে ৮ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা ।

Chetona Barta

{facebook#http://www.facebook.com/ChetonaBarta}

Md. Rashaduzzaman

{facebook#http://www.facebook.com/rashaduzzaman777} {twitter#http://twitter.com/rashaduzzaman} {google-plus#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {pinterest#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {youtube#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {instagram#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL}

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget