ক্যাটাগরি "ধর্মবার্তা"

 

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، أما بعد :

أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيم، بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

وَ تُوْبُوْۤا اِلَی اللهِ جَمِیْعًا اَیُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ.

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বান্দাদের উপর যেসব আমল ফরয করেছেনএর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হল তওবা। তওবা অর্থ হলতাঁর দিকে ফিরে আসা। এটা আল্লাহর সকল বান্দাদের উপর ফরয। মুসলিম-অমুসলিম সবার উপরে ফরয। অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে নাইঈমান আনে নাইতার উপরও ফরয- কুফর থেকের্শিক থেকে তওবা করে মুসলিম হয়ে যাওয়াঈমান গ্রহণ করা। যে ঈমান এনেছেআল্লাহ তাআলা মুসলিম হওয়ার তাওফীক দান করেছেনতার উপর ফরয তাকওয়ার জিন্দেগী অবলম্বন করা। অর্থাৎ যতকিছু আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেনযত পাপযত গুনাহ সবকিছু থেকে বেঁচে থাকা।

আল্লাহর ফরযগুলো আদায় করাএটা হল তাকওয়া। সকল মুমিন-মুসলিমের উপর তাকওয়ার জিন্দেগী অবলম্বন করা ফরয। ন্যূনতম তাকওয়ার স্তুর হল গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা আর আল্লাহর ফরয আদায় করা। আল্লাহর হক আদায় করাবান্দার হক আদায় করা। এই ফরয অনেকসময় লঙ্ঘিত হয়ে যায়। আমরা খেয়াল করি নাভুল হয়ে যায়গুনাহ হয়ে যায় এবং ফরয-ওয়াজিব  কোনো আমল ছুটে যায় এবং অজান্তেঅনিচ্ছায় বা সম্পূর্ণ বেখেয়ালিতেও অনেকসময় জরুরি আমল ছুটে যায় এবং কোনো গুনাহ হয়ে যায়। এজন্য সর্বাবস্থায় তওবা করা উচিত। গুনাহ হয়ে গেলে তো বটেই। আমার খবর নেইআমার ধারণা যেকোনো গুনাহ হয় নাই তবুও তওবা করা। কেনকারণ আমি তো মানুষ! শুধু মানুষ নাআমি একজন সাধারণ মুমিন। রাসূলুল্লাহর উম্মত।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তো মানুষ। কিন্তু তিনি রাসূলনবীমাছুমনিষ্পাপ। আখেরী নবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাতামুন নাবিয়্যীন। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আর কোনো নবী আসবে না। নতুন করে কোনো নবী হতে পারে নাআসতে পারে না।

কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ মুসলিম হবেমুমিন হবে সবাই কার উম্মতহযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত। উম্মত তো আর মাছুম না। ভুলের ঊর্ধ্বে না। তার ভুল হয়ে যায়গুনাহ হয়ে যায়। খাতামুন নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর আগের নবীগণ মাছুম। তাঁরা ছিলেন নিষ্পাপ। তাঁরাও তওবা করতেন। ইস্তিগফার করতেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন এবং তওবা করতেন। তাহলে উম্মতের আরো বেশি করে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। এটা হল সাধারণ কথা। যে কোনো সময়সুখ-শান্তিতে আছিকোনো অশান্তি নেইকোনো মহামারি নেইবিপদ নেইমসিবত নেইনিরাপদে আছিশান্তিতে আছি তখনও বিধান হল তওবা-ইস্তিগফার করা।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত ইস্তিগফার করতেনতওবা করতেন। কোনো মজলিসে সাহাবায়ে কেরামের সাথে বসে আছেনদেখা যায়মজলিসের মধ্যে ৭০ বার বা ১০০ বারের মত ইস্তিগফার পড়া হয়ে গেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর নিম্নোক্ত হাদীসে এই কথাটিই বলা হয়েছে-

إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّ لِرَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَجْلِسِ الْوَاحِدِ مِائَةَ مَرَّةٍ: رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ.

-সুনানে আবু দাউদহাদীস ১৫১৬জামে তিরমিযীহাদীস ৩৪৩৪

প্রত্যেক ইস্তিগফারের সাথেই তওবা আছে। তওবা বিহীন ইস্তিগফারের মূল্য নেই। আর ইস্তিগফার বিহীন তওবা সম্ভবই না। ইস্তিগফার এবং তওবা।

ইস্তিগফার মানে কীআল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। আয় আল্লাহ! আমার ভুল হয়েছেআমাকে ক্ষমা করে দিন। আল্লাহ আমি গুনাহ করে ফেলেছিআমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি আমার উপর অনেক জুলুম করেছি। গুনাহের কারণেগুনাহের মাধ্যমে মানুষ শুধু নিজের উপরই জুলুম করে না-

بے ادب تنہا نہ خود  را  داشت بَد

بلکہ آتش در ہمہ آفاق زَد

বেআদব শুধু নিজেকেই বরবাদ করছে- তা না।

بلکہ آتش در ہمہ آفاق زَد

বরং পুরো পৃথিবীতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

কে বেআদববেআদব কী জানেন?  সবচেয়ে বড় বেআদব হল গুনাহগার।

আর যেটাকে আমরা বেআদবি মনে করিযেমন বলি যেছেলেটা বেআদবকেমন বেআদবি করছে- সেটাও গুনাহ। সে বেআদবিও গুনাহ।

যে গুনাহের কাজ করে সে শুধু নিজের উপর জুলুম করে- তা না। আমরা বলি-

اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذَّنْبَ إِلّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ.

আমি আমার উপর অনেক অত্যাচার করেছিগুনাহ করে নিজের উপর অনেক অত্যাচার করেছি।

নিজের উপর অত্যাচার মানে কীনিজের উপর অত্যাচার মানে হলআমি আমার উপর অত্যাচার করে আমি আমাকে বরবাদ করেছি।

সাহাবায়ে কেরাম বুঝতেন বিষয়টা। হালাকতু ওয়া আহলাকতু’- আমি নিজেও বরবাদ হয়েছিঅন্যকেও বরবাদ করেছি। অন্যকে বরবাদ করার অর্থ কীআমার গুনাহের কারণে মসীবত নাযিল হয়। আসমান থেকে বালা নামতে থাকে। যমীন থেকে বালা ওঠে। আমার গুনাহের কারণে। বালা যে আসে সেটার কষ্ট কি শুধু আমার একারনা সবার কষ্টসবার কষ্ট।

গুনাহ করার কারণে শুধু নিজের উপর বালা আসে- তা না। গুনাহ করে একে তো নিজেকে বরবাদ করেছি। আবার আরো দশজনকে বরবাদ করেছি। সকলের ক্ষতির কারণ হয়েছি আমি। এজন্য তওবা করা সবসময় জরুরি কাজ।

এখন যে মহামারিযে বালা-মসিবতে আমরা আছিশুধু এ দেশ নয়পুরা মুসলিম বিশ্বপুরা পৃথিবী যে মসিবতে আক্রান্ত। এসময় কাজ কীএকা একা তো সবাই তওবা করবেই। সবসময় করবেকিন্তু এধরনের বালা-মসিবত দূর হওয়ার জন্য সকলকে তওবা করতে হবে-

وَ تُوْبُوْۤا اِلَی اللهِ جَمِیْعًا اَیُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ.

হে ঈমানদার বান্দারা!  তোমরা সবাই তওবা কর। তবে সবাইকে একসাথেএক ময়দানে এসে তওবা করতে হবে- এটা বলা হয়নি। এটাও হতে পারেনিষেধ নেই। কিন্তু ‘ جَمِيْعًا  জামিয়ান’ মানে সবাই। সকলকে তওবা করতে হবে। সবাই তওবা করো। সবাই তওবা করোকারণ সমস্যা তো সবার।

কতজনের পাপের বা গুনাহের কারণে এই সমস্যা এসেছে সেটা আল্লাহ্ই ভালো জানেন। কার কার পাপের কারণে এসেছে সেটা আল্লাহ্ই জানেন। কিন্তু করতে হবে তওবা সবাইকে। কারণযে ধারণা করবে যে এটা আমার পাপের কারণে আসে নাইতার এ ধারণাটাই পাপ। তার এই ধারণাটাই অন্যায় যেঅন্যদের পাপের কারণে এসেছে। কারো যদি এমন ধারণা মাথায় আসেতাহলে তার এই ধারণা কঠিন অহংকার এবং মহা পাপ। সুতরাং সকলকেই তওবা করতে হবে।

তো অমুসলিম যারাতারা তো আল্লাহকে চেনে না। আল্লাহর উপর ঈমান আনার তাওফীক হয় নাই। তো সকল মুমিন যদি তওবা করেআল্লাহ্ মুসিবত উঠিয়ে নেবেন ইনশাআল্লাহ। কিন্তু সবাইকে তওবা করতে হবে। সকল শ্রেণির মানুষকে তওবা করতে হবে। সকল সদস্যকে তওবা করতে হবে।

সকল বাবা তওবা করবে যেআমরা সন্তানদের কী হক নষ্ট করেছি। সকল সন্তান তওবা করবে যেআমরা মা-বাবার কী হক নষ্ট করেছি। সকল যুবক তওবা করবে যেআল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যে যৌবন দান করেছেনএই যৌবন কোন্ পথে ব্যয় করেছি। এটা কি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিতে ব্যয় করেছিনাকি নাফরমানী করেছিবৃদ্ধ তওবা করবে যেআল্লাহ আমাকে এত দীর্ঘ হায়াত দান করেছেনকিন্তু আমি আল্লাহর কী এমন ইবাদত-বন্দেগী করেছিকী হক আদায় করেছি! পুরুষরা তওবা করবে। নারীরা তওবা করবেকে আল্লাহর কী হক নষ্ট করেছে এবং কে আল্লাহর বান্দাদের ও মাখলুকের কী হক নষ্ট করেছেশাসকশ্রেণি তওবা করবে যেআল্লাহ আমাকে শাসক বানিয়েছেনআমার অধীনস্তদের হক আদায় করেছি কি না। তাদের উপর কত জুলুম করেছিআল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। সাথে সাথে সেইসব জুলুমের কাফফারা করতে হবে। শাসক বানিয়েছেন আল্লাহ তাআলাকিন্তু শাসন করছ নিজের ইচ্ছামতোআল্লাহর বিধানমতো করছ না। হারাম! এটা থেকে তওবা করতে হবে আর আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করতে হবে।

এই যে পুরা বিশ্বে যত বুদ্ধিজীবী সমাজ আছেযত শাসক আছেদেশের কথা বলছি না শুধুপুরো পৃথিবীর কথা বলছিসবার কথা বলছিমুসলিম-অমুসলিম সবাইযত লিডার আছেযত শাসক আছে সবাই সমাধান খুঁজছে এই মসীবতের! কিন্তু আল্লাহকে স্মরণ করছে না। সমাধান খুঁজছে লকডাউন দিয়ে। সমাধান খুঁজছে মাদরাসা-মকতব বন্ধ দিয়ে। সমাধান খুঁজছে জাগতিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে। লকডাউন দিয়ে কি আল্লাহর কাছ থেকে বাঁচতে পারবে! লকডাউন দিয়ে আল্লাহর কাছ থেকে বাঁচা যাবে! স্বচক্ষে দেখছবাঁচতে পারছ না। সবাই বোঝে এটা তামাশা। তারপরও তামাশা করে।

এটা শুধু এই সরকারই করছে না। পুরা দুনিয়ার সবাই করছে। সবাই তামাশা করছে। শুধু লকডাউন দিয়ে আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে বাঁচতে পারবে না। আল্লাহর কাছ থেকে বাঁচতে হলে তওবা করতে হবে। আল্লাহর দিকে ফিরে এসো। নিজের উপর কী জুলুম করেছনিজের অধীনস্তদের উপর কী জুলুম করেছ। সে জুলুমের কাফফারা কর। আল্লাহকে স্মরণ কর। আল্লাহর দিকে ফিরে এসো।

ইটালিতে কী করেছে জানেন না! ওরা আল্লাহকে চেনার মত চেনে না। কুরআন যেভাবে বলেছেওভাবে চেনে না আল্লাহ্কে। কিন্তু যেহেতু খ্রিস্টানবিকৃত ধর্মের অনুসারীতো এতটুকু জানে যেমাবুদ আছেনআল্লাহ আছেন। এ কথা বোঝে না যেআমাকে ঈমান এনে তওবা করতে হবে। আল্লাহর কাছে ঈমান ছাড়া তওবা কবুল হবে না। এতটুকু জ্ঞান নেই। কিন্তু একেবারে মাঠে নেমে গেছে সবাই। একসাথে কান্নাকাটি শুরু করেছে।

এটা করোনার প্রথম ধাপে ঘটেছে। তো এই যে হাত উঠিয়ে দুআ করাকান্নাকাটি করাএটা হল আল্লাহর দিকে ফিরে আসার ছোট স্তর। এটা হল তওবার ছোট স্তর। আসল তওবা হলযে কারণে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়েছেন,  আল্লাহর নাফরমানী করে আমরা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করেছিওটা থেকে তওবা করতে হবে। সকল গুনাহ থেকে তওবা করতে হবে। আল্লাহর বান্দাদের যে হক নষ্ট করেছিওটার জন্য তওবা করতে হবে এবং সে হক আদায় করতে হবে। আল্লাহর হক নষ্ট করেছিসেটার জন্য তওবা করতে হবে এবং হক আদায় করতে হবে। এটাকেই বলে তওবা।

আল্লাহ আমি ক্ষমা চাইআপনি ক্ষমা করেনআপনি মাফ করেনকান্নাকাটি করা। এটা হল তওবার দ্বিতীয় রোকন। তওবার দ্বিতীয় স্তম্ভ হল ইস্তিগফার এবং কান্নাকাটি করা। প্রথম স্তম্ভযা ছাড়া তওবা হবেই নাসেটা হলফিরে আসা। তুমি ফিরে এসো। অন্যায় থেকে ফিরে এসো। সঠিক রাস্তা অবলম্বন কর। আল্লাহকে বলআল্লাহ আমি ফিরে এসেছি। পিছনের জন্য আমি লজ্জিত। এটার নাম তওবা।

وَ تُوْبُوْۤا اِلَی اللهِ جَمِیْعًا اَیُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ.

হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তাওবা করযাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর। -সূরা নূর (২৪) : ৩১

তো মুমিনরা যদি সবাই তওবা করেআল্লাহ মুমিনদের তওবার মাধ্যমে কাফের-মুশরিকদেরও বালা-মসিবত থেকে উদ্ধার করেন। কিন্তু তাদেরও এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার। উপদেশ গ্রহণ করা দরকার। সেই উপদেশ গ্রহণ করা তখনই সাব্যস্ত হবেযদি ঈমানের তওফীক হয়ে যায় এবং ঈমান এনে মুসলিম হয়ে যায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে খালেস অন্তরে তাওবাতান নাসূহা’ করার তাওফীক দান করেন। ইনশাল্লাহ যদি আমরা তওবা এবং ইস্তিগফারের প্রতি যত্নবান হই এবং দুআযিকির-আযকারের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে পরিপূর্ণভাবে রুজু করিইনশাআল্লাহ এই মসিবত উঠে যাবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার তাওফীক দান করুন- আমীন।

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

 

[জুমাপূর্ব বয়ান

মারকাযদু দাওয়াহ হযরতপুর প্রাঙ্গণ

১৯-১২-১৪৪২ হি.

৩০-০৭-২০২১ ঈ.

শ্রুতিলিখন : আবু নুসাইবা খায়রুল বাশার]

চেতনাবার্তা ডেস্ক।।

‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা, ওয়াননি’মাতা, লাকা ওয়ালমুলক, লা শারিকা লাক…।’ এমন মধুর ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে পবিত্র আরাফাতের পাহাড়ঘেরা ময়দান ছাপিয়ে আকাশ-বাতাস মুখর ও প্রকম্পিত হবে আজ। করোনা মহামারির মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো আজ সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র হজ। গত বছরও হজ পালনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ছিল। এবারও লোকজনকে পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই হজ পালন করতে হচ্ছে।


আরব নিউজ ও আল আরাবিয়ার খবরে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে এ বছরও সৌদি আরবের বাইরে থেকে কোনো হজযাত্রীকে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। সৌদি আরবে বাস করা দেশটির নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের মধ্য থেকে ৬০ হাজার ব্যক্তি হজ করার অনুমতি পেয়েছেন। শুধু ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সি সৌদি নাগরিক এবং দেশটিতে বাস করা ১৫০ দেশের নাগরিক হজ করার সুযোগ পেয়েছেন। সবাই দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। গতবারও বিধিনিষেধের মধ্যে ১ হাজার মুসলিমকে হজ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করেন। আজ সোমবার ফজরের সালাতের পরেই মিনা থেকে দলে দলে হাজিগণ উপস্থিত হবেন আরাফার ময়দানে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিরা সেখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকবেন। আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে খুতবা পাঠ করবেন মসজিদুল হারামের খতিব শায়খ ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা। খুতবা পাঠ শেষে জোহর ও আসরের ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে হাজিরা জামাতের সঙ্গে কছর নামাজ আদায় করবেন। 


সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তাআলার জিকির-আসকার ও ইবাদতে মশগুল থাকবেন। এরপর মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুজদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

যা মানতে হবে হাজিদের :এ বছর হাজিদের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে : হজের পুরো সময় হাজিরা নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব রক্ষা ও ফেসমাস্ক পরার নিয়ম মেনে চলবেন। হাজিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মসজিদে নামিরায় প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য পৃথক রাস্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার ঈদুল আজহার দিন মিনায় হাজির হয়ে তিনটি জামারায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপকালে ভিড় এড়াতে নির্ধারিত দূরত্বে জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে দাঁড়িয়ে হাজিরা পাথর নিক্ষেপ করবেন।


খুতবা বাংলায় অনুবাদ করবেন বাংলাদেশের আলেম :গত বছর থেকে আরাফার দিনের খুতবা সরাসরি বাংলাসহ ১০টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়। বাংলাসহ অন্য যে ভাষায় সম্প্রচার হবে হজের খুতবা তা হলো—ইংরেজি, ফরাসি, তুর্কি, মালাইউ, চায়নিজ, উর্দু, ফারসি, রাশিয়ান ও হাউসা। এ বছর হজের খুতবার বাংলা অনুবাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মাওলানা আ ফ ম ওয়াহীদুর রহমান। বর্তমানে তিনি মক্কা ইসলামি সেন্টারে দাঈ হিসেবে কাজ করছেন।

ধর্মবার্তা ডেস্কঃ সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত পর্যন্ত মক্কায় মসজিদুল হারামে উপস্থিত হতে থাকবেন এবারের হজের জন্য নির্বাচিত মুসল্লিরা। আগামীকাল রোববার (১৭ জুলাই) শুরু হবে হজের মূল কার্যক্রম। করোনা মহামারির কারণে সীমিত পরিসরে মাত্র ৬০ হাজার মুসলিম এবার হজে অংশ নিচ্ছেন। 

সৌদি আরবে শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত মক্কায় উপস্থিত হবেন মুসল্লিরা। তারা ওমরাহ পালন করবেন। পরদিন ৮ জিলহজ মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন হাজিরা। এদিন দিবাগত রাতে শুরু হবে হজের মূল কার্যক্রম।
আগামী ১৯ জুলাই আরাফার দিন পালিত হবে পবিত্র হজ। পরদিন পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে মূল কার্যক্রম। করোনা মহামারির মধ্যে এবারও সীমিত পরিসরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে হজে অংশ নেবেন মুসল্লিরা। 
বাইরের কেউ সুযোগ না পেলেও সৌদিতে থাকা ১৫০টি দেশের নাগরিকসহ অংশ নিচ্ছেন ৬০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে অনেক বাংলাদেশিও রয়েছেন। প্রবাসীরা বলেন, বাংলাদেশি অনেক ভাই এ বছর হজ করার সুযোগ পেয়েছেন। আমাদের হজের উছিলায় যাতে পৃথিবী করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পায়। দোয়া করি পরম করুণাময় আল্লাহ এ বছর হজ যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
এদিকে, মক্কা, আরাফা, মিনা ও মুজদালিফায় চলাচলে হাজিদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩ হাজার বাস। এর সঙ্গে থাকছে তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য ৫১টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। ৫৯৪ চিকিৎসক ছাড়াও হজের মাঠে থাকবেন আরও ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী।
এবারই প্রথম সৌদি সরকার মুসল্লিদের জন্য হজ অনুমতিপত্র তাছরিহ্ এর সঙ্গে স্মার্ট কার্ডের ব্যবস্থা করেছে। হাজিদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নির্বাচিত মুসল্লিদের দেওয়া হয়েছে ছবিসহ এই স্মার্ট কার্ড।


ধর্মবার্তা ডেস্কঃ কোরবানি অর্থ নৈকট্য, ত্যাগ–তিতিক্ষা। যেকোনো ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনই হলো কোরবানি। ইসলামি পরিভাষায় কোরবানি হলো জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগপর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পশু জবাই করা। ঈদ মানে আনন্দ। ইসলামে দুটি ঈদ—ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ ও ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। আজহা অর্থ হলো কোরবানির পশু; এর আরেক অর্থ হলো ছাগল বা বকরি। তাই একে বকরিদও বলা হয়।

ইতিহাসে প্রথম কোরবানি করেন বাবা আদম (আ.)–এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল। হাবিলের কোরবানি ছিল দুম্বা আর কাবিলের কোরবানি ছিল কিছু খাদ্যশস্য। সেকালে কোরবানি কবুল হলে আসমানি আগুন এসে তা পুড়িয়ে ছাই করে দিত, কবুল না হলে তা হতো না। হাবিলের কোরবানি কবুল হয়েছিল, কাবিলের তা হয়নি।

 

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আদম (আ.)–এর পুত্রদ্বয়ের বৃত্তান্ত আপনি তাদের শোনান। যখন তারা উভয়ে কোরবানি করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হলো আর অন্যজনেরটা কবুল হলো না। অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকিনদের কোরবানি কবুল করেন।’ (সুরা–৫ মায়িদা, আয়াত: ২৭)।

যুগপরম্পরায় কোরবানি ছিল। হজরত ইব্রাহিম (আ.) আদিষ্ট হয়েছিলেন প্রিয় বস্তু কোরবানি করার জন্য। আদেশ পালনের জন্য তিনি সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করেছিলেন প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় ইসমাইল (আ.)-এর বদলে কোরবানি হলো বেহেশতি দুম্বা। সেই স্মৃতির নিদর্শনরূপে কিয়ামত পর্যন্ত সামর্থ্যবান সব মানুষের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব করা হলো। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সব সম্প্রদায়ের জন্য আমি কোরবানির বিধান দিয়েছি, তিনি (আল্লাহ) তাদের জীবনোপকরণস্বরূপ যেসব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলোর ওপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (সুরা–২২ হজ, আয়াত: ৩৪)। ‘বলুন, নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কোরবানি ও হজ, আমার জীবন ও মরণ সমগ্র জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই নিবেদিত।’ (সুরা-৬ আনআম, আয়াত: ১৬২)। ‘(হে নবী! (সা.) আপনি আপনার রবের উদ্দেশে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা-১০৮ কাউসার, আয়াত: ২)। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারেকাছে না আসে।’ (ইবনে মাজা)।

কোরবানি হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। লৌকিকতা বা সামাজিকতার উদ্দেশ্যে নয়। লাখ টাকার গরু দিয়ে লোকদেখানোর জন্য কোরবানি দিলে তা কবুল হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে ওদের গোশত–রক্ত পৌঁছায় না; বরং পৌঁছায় তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা-২২ হজ, আয়াত: ৩৭)।

১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ সাহেবে নিসাব তথা নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসাপণ্য) সম্পদের মালিক হন, তাহলে তাঁর একটি কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। যাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তিনি চাইলে নফল কোরবানি দিতে পারবেন।
একটি কোরবানি হলো একটি ছাগল, একটি ভেড়া বা একটি দুম্বা অথবা গরু, মহিষ ও উটের সাত ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ একটি গরু, মহিষ বা উট সাতজন শরিক হয়ে বা সাত নামে, অর্থাৎ সাতজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায়। কোরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স এক বছর হতে হয়; গরু ও মহিষের বয়স দুই বছর এবং উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে। কোরবানির পশু নিজ হাতে জবাই করা উত্তম; অন্য কেউ জবাই দিলেও হবে। ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর’ বলে জবাই করলেই কোরবানি শুদ্ধ হবে। তবে নির্দিষ্ট দোয়া জানা থাকলে পড়া উত্তম।
গরু, মহিষ ও উট সাত শরিকে কোরবানি করা যায়। হজরত জারিব (র.) বর্ণনা করেন, ‘হুদায়বিয়ার বছর আমরা নবীজি (সা.)–এর সঙ্গে কোরবানি করেছিলাম—একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে, একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে।’ (জামে তিরমিজি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮০)। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (র.) জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (র.) সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে আমরা তামাত্তু হজ করতাম এবং আমরা একটি গরু সাত শরিকে ও একটি উট সাত শরিকে জবাই করতাম।’ (আবুদাউদ, কোরবানি অধ্যায়, পৃষ্ঠা: ৩৮৮)। ইমাম আজম আবু হানিফা (র.)-এর মতে, সব শরিকের নিয়ত থাকতে হবে ইবাদত।
কোরবানি হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। লৌকিকতা বা সামাজিকতার উদ্দেশ্যে নয়। লাখ টাকার গরু দিয়ে লোকদেখানোর জন্য কোরবানি দিলে তা কবুল হবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে ওদের গোশত–রক্ত পৌঁছায় না; বরং পৌঁছায় তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা-২২ হজ, আয়াত: ৩৭)।

একজন অন্যজনের জন্য, জীবিত ও মৃতদের জন্য কোরবানি দিতে পারেন। প্রিয় নবীজি (সা.) একটি কোরবানি জবাইয়ের সময় বলেছিলেন, ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর, এটি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার ওই সব উম্মতের পক্ষ থেকে, যারা কোরবানি করতে পারেনি।’ (সুনানে আবুদাঊদ, কোরবানি অধ্যায়, পৃষ্ঠা: ৩৮৮)।


মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

smusmangonee@gmail.com


বিশ্ববার্তা ডেস্কঃ যথাযথ অনুমতি না নিয়ে পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদুল হারাম, এর আশপাশের এলাকা এবং হজের জন্য নির্ধারিত পবিত্র স্থানগুলোতে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি সরকার।

 

 

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আরব নিউজ জানায়, সোমবার (৫ জুলাই) থেকে এই ঘোষণা কার্যকর হবে। হজ মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ম কার্যকর থাকবে।
কেউ প্রবেশ করলে তাকে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে। এছাড়া কেউ যদি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করেন তবে তার জরিমানা দ্বিগুন হয়ে যাবে।

 

 

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে আরব নিউজ জানায়, মসজিদুল হারামের পাশাপাশি অন্যন্য পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাত।


সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশটির সকল নাগরিককে হজ মৌসুমের এসব নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। এক কঠোর ঘোষণায় বলা হয়েছে, কোথাও যেন নিয়মের লঙ্ঘন না হয় আর যদি হয়েই যায় তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়ম লঙ্ঘনকারীকে শাস্তির আওতায় আনতে মসজিদুল হারাম ও পবিত্র স্থানগুলো অভিমুখি প্রতিটি রাস্তায় দায়িত্ব পালন করবে।

Chetona Barta

{facebook#http://www.facebook.com/ChetonaBarta}

Md. Rashaduzzaman

{facebook#http://www.facebook.com/rashaduzzaman777} {twitter#http://twitter.com/rashaduzzaman} {google-plus#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {pinterest#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {youtube#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {instagram#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL}

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget