ক্যাটাগরি "কৃষিবার্তা"

শিবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল এলাকায় কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় পুষ্টি-প্রযুক্তি গ্রাম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রহবলের পশ্চিম পাড়ায় এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

পুষ্টি

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল পশ্চিমপাড়া গ্রামে স্থাপিত হয়েছে পুষ্টি-প্রযুক্তি গ্রাম। 

কর্মসূচিতে পুষ্টি-প্রযুক্তি গ্রামের ৫০ জন কৃষক-কৃষানীর মাঝে প্রত্যেকে ১ টি করে বলসুন্দরী জাতের কূলের চারা ও ১ টি করে আম্রপালী জাতের আমের চারা এবং দুটি করে প্লাষ্টিক নেটের বেড়া সরবরাহ করা হয়। ‘পুষ্টি প্রযুক্তি গ্রামে’ রোপণকৃত চারা গাছগুলো পরম যত্নে বড় হচ্ছে কৃষকের বসতবাড়িতে।

এছাড়াও বসতবাড়ির পতিত জমিতে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে স্বল্পপরিসরে পেঁপে, আদা, হলুদ, ওলকচু, সজিনা, কচুশাক, মাছআলু, তালআলুসহ রকমারি অপ্রচলিত সবজির চাষ হচ্ছে ।   

এ প্রকল্পের তত্বাবধানে রয়েছেন রহবল ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, দিন দিন মানুষ বাড়ছে, কিন্তু জমির পরিমান কমে যাচ্ছে। বসতবাড়ির আশেপাশে স্বল্পপরিসরে অনেক পতিত এবং সাময়িক পতিত জমি থাকে, এ সকল পতিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে পারিবারিক সবজি-পুষ্টির চাহিদা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

 ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে শাহিন আলমের বিস্তৃত তরমুজখেত। সেখানকার মাচায় ঝুলছে রংবেরঙের তরমুজ। কোনোটি গাঢ় সবুজ, আবার কোনোটি হলুদ। ওই খেত দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার মানুষ।



শাহিন আলম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। কথায় কথায় জানালেন, করোনার থাবায় বন্ধ আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই অবসরে রাজধানী থেকে গ্রামে ফিরে কিছু একটা করার উদ্যোগ নেন। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুর রহমানের পরামর্শে ইউটিউব দেখে বিদেশি তরমুজ চাষের প্রাথমিক ধারণা নেন। সেই ধারণা থেকে ২৫ শতক জমিতে তরমুজ চাষের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। রাজধানী থেকে গোল্ডেন ক্রাউন (ওপরে হলুদ, ভেতরে লাল) ও ব্ল্যাক বেবির (ওপরে গাঢ় সবুজ, ভেতরে লাল) তরমুজের বীজ সংগ্রহ করে বপন করেন। চারা হওয়ার পর গত ১৯ জুন সেই তরমুজের চারা জমিতে স্থানান্তর করেন। শুরু করেন নিয়মিত পরিচর্যা।


শাহিন আলম বলেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রতিটি ফল তিনি নেটের ব্যাগে ঝুলিয়ে দেন। ফলে প্রচুর বৃষ্টিপাতেও তরমুজ নষ্ট হয়নি। অসময়ে বিদেশি জাতের তরমুজ চাষ করায় অনেকে কৌতূহল নিয়ে তাঁর তরমুজ খেত দেখতে আসেন।


সরেজমিনে দেখা গেছে, মাচায় ঝুলছে কালচে ও হলুদ রঙের তরমুজ। সবুজ পাতার মধ্যে যেদিকে চোখ যায়, সেখানেই শুধু তরমুজ আর তরমুজ। তরমুজ দেখতে আসা অনেককেই তরমুজ কেটে আপ্যায়ন করছেন শাহিন।


শাহিন আলম বলেন, পরীক্ষামূলক তরমুজ চাষে সফলতা পেলে আরও বড় আকারে চাষ করার পরিকল্পনা আছে। এ পর্যন্ত জমি প্রস্তুত, সার, বীজ, মাচা, সুতা ও জাল বাবদ তাঁর খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর খেতের তরমুজ খাওয়ার উপযোগী হবে। এসব তরমুজ ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রির আশা তাঁর।


হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি: মহামারি করোনাকালীন এক বছর যাবৎ  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঘরে বসে সময় নষ্ট না করে কমলা বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিমসারডুবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা মজুমদার।


কমলা চাষি শিক্ষক ফাতেমা মজুমদার বলেন, ২০০৫ সালে কমলা খেয়ে বীজ রোপণ করে পরীক্ষামূলক ১টি চারা গাছ থেকে আজ বিশাল বাগান হয়েছে।  বর্তমানে নাগপুরি’সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের ৫ শতাধিক গাছে কমলা ধরেছে। এসব গাছ থেকে প্রতি মৌসুমে ৫ লাখ টাকার কমলা বিক্রি হয়। জেলা প্রশাসক’সহ সরকারি বেসরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের আগমন ঘটেছিল কমলা বাগান পরিদর্শনে। ২০১৪ সালে বাগান থেকে আসতে শুরু হয় কমলা। এরপর শ্রেষ্ঠ কমলা চাষি হিসেবে ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছি। প্রধানমন্ত্রী দেয়া পরামর্শ আর জাতীয় পুরস্কারই আরো উৎসাহ বাড়িয়ে দেয় আমার। এখন পর্যায়ক্রমে বাগান সম্প্রসারিত করে ৫ শতাধিক কমলা গাছ থেকে কমলা ও নার্সারী থেকে হাজার হাজার কলম চারা বিক্রি করে বছরে ৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।
তার স্বামী খলিলুর রহমান উপজেলার মিলন বাজার মোজাম্মেল হোসেন আহম্মেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্বামী স্ত্রীর চাকরি জীবনে স্কুল সময় দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে কমলা চাষ করে জেলায় প্রশংসা কুড়িয়েছে তারা। সফলতা ও বাড়তি আয়ে বদলে দিয়েছে ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে’সহ ৫ সদস্যের পরিবারের ভবিষ্যৎ চলার গতিধারাকে।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দিনের পর দিন পান চাষাবাদের পরিমাণ দ্বিগুণহারে বেড়েই চলছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে পানের ফলনও দেখা দিয়েছে ভাল। করোনার কারণে পরিবহন বন্ধ থাকায় জেলার বাহিরে পান রপ্তানিসহ বাজারজাত করতে না পারায় বিপাকে পরেছে চাষিরা। গাছ থেকে পান তুলতে না পারায় গাছের গোড়া হতে মাথা পর্যন্ত পানে ভরে গেছে। অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় অনেকে এখন পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। উপজেলায় বর্তমানে ২০০ হেক্টর জমিতে পান চাষাবাদ হচ্ছে। বিভিন্ন জাতের পান এখন  ছেয়ে গেছে উপজেলায়। বিশেষ করে উপজেলার চন্ডিপুর, কঞ্চিবাড়ি, শান্তিরাম, বামনডাঙ্গা,  তারাপুর, সর্বানন্দ, রামজীবন ইউনিয়নে বেশি পান চাষাবাদ হচ্ছে। 



শান্তিরাম ইউনিয়নের পান চাষি বেলাল মিয়া জানান, তিনি আগে পান সুপারি দোকান করতেন। গত ৮ বছর ধরে ২০ শতক জমিতে পানের বরজ দিয়ে পান চাষাবাদ করছেন। প্রতিবছর তিনি খচর বাদ দিয়ে ২ হতে ৩ লাখ টাকা আয় করছেন। বর্তমান বাজারে একশ পান বিক্রি হচ্ছে ১৫ হতে ৩৫ টাকা দরে। করোনার কারণে পরিবহন বন্ধ থাকায় বাহিরে পান বিক্রি করতে না পারায় লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদেরকে। 
কালিতলা বাজারের পান-সুপারির দোকানদার রফিকুল ইসলাম জানান, করোনার কারণে পানের দোকান বন্ধ থাকায় পান কেনা আপাতত বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া এখন অনেকে পান খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। 
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার এ.কে.এম ফরিদুল হক জানান, পান চাষে এখন অনেকে আগ্রহী হয়ে উঠছে। উপজেলায় দিন দিন পান চাষের সংখ্য বেড়েই চলছে। চলতি মৌসুমে পানের ফলনও ভাল হয়েছে।

 


সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বিরল প্রজাতির পারুল গাছের বীজ ও শিকড়  থেকে ৯ টি চারা উৎপাদন করে সারা ফেলেছেন সজল। কঠোর পরিশ্রম করে সোনাতলার মাটিতেই  চারা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেনি তিনি। 

এর আগে ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী, উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ কলেজে এসে গাছটির বংশ বিস্তারে চেষ্টা চালালেও তারা হয়েছেন ব্যর্থ। অবশেষে কঠোর পরিশ্রম করে সফর হলেন সজল।  
বগুড়ার সোনাতলা সরকারি নাজির আখতার কলেজ চত্বরে রয়েছে বিশাল আকৃতির পারুল গাছ । প্রায় ১শ বছর আগে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও জমি দাতা সৈয়দ নুরুল হুদার পিতা সৈয়দ নাজির আলী ভারতের ভাগলপুরে বিট্রিশ শাসনামলে চাকুরি করা কালে পারুল গাছের দুইটি চারা এনে কলেজ ক্যাম্পাসে রোপন করেন। দুইটি চারার মধ্যে একটি গাছের চারা মারা যায়। আরেকটি গাছ এখনও  রয়েছে। গাছটির বয়স প্রায় একশ’ বছর। এটি একটি বিরল প্রজাতির বৃক্ষ। দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় আর কোথাও এই গাছের সন্ধান পাননি উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের শিক্ষকরা। 


উপজেলার গড়ফতেপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ আকন্দের জ্যেষ্ঠ পুত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ ও রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে নৌ ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. আজাদুর রহমানের সহযোগিতায় তার ভাই একেএম দিদারুল ইসলাম সজল (৪২) অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধা খাটিয়ে ওই বিরল প্রজাতির পারুল গাছের বীজ ও শিকড় থেকে ইতিমধ্যেই ৯টি চারা উৎপাদন করেছেন। নিজ বাড়িতে তিনি প্রায় ৫ বছর আগে চারাগুলো উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে গাছগুলো ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতার হয়েছে। 


এ বিষয়ে বৃক্ষ প্রেমিক সজল জানান, বিলুপ্ত প্রজাতির বিরল পারুল গাছটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে শুধু বগুড়ার সোনাতলায় রয়েছে। এই গাছটি এক সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ওই বিরল প্রজাতির বৃক্ষটির সৌন্দর্য দর্শন ও ফুলের সুভাষ উপভোগ থেকে বঞ্চিত হবে। তিনি এই চারাগুরোর মধ্যে থেকে একটি নিজ বাড়িতে এবং অন্যগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, জাতীয় যাদু ঘরের সামনে রোপন করতে চান।

চেতনাবার্তা.কমঃ
শাক-সবজি আমাদের শরীরের ভিটামিন ও খনিজ পর্দাথের উৎস। সুতরাং শাক-সবজি যত টাটকা খাওয়া যায় ততই ভাল। স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য শহরের বাসিন্দারা টাটকা সবজির জন্য মূলত বাজারের উপর নির্ভরশীল। অথচ অল্প পরিশ্রমেই বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, কার্ণিশে, বড়-মাঝারি-ছোট বিভিন্ন আকারের টবে পছন্দ মাফিক শাক-সবজির আবাদ করতে পারে। টবে আবাদযোগ্য শাক-সবজি হল টমেটো, বেগুন, মরিচ, শশা, ঝিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, মটরশুটি, কলমি শুটি, কলমি শাক, লাউ, পুঁই শাক, পেঁপে, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, থানকুঁনি, লেটুস, ব্রোকলি ইত্যাদি।

টবের বীজতলার মাটি:
শাক-সবজির বীজতলার জন্য মাটি হতে হবে ঝুরঝুরে, হালকা এবং পানি ধরে রাখার ক্ষমতাসম্পন্ন। মাটি চালনি দিয়ে চেলে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। দুই ভাগ বেলে দো-আঁশ মাটির সঙ্গে দুই ভাগ জৈব সার মিলিয়ে নিয়ে বীজতলার মাটি তৈরি করে নিতে হয়। মাটি যদি এঁটেল হয় তাহলে বীজের অঙ্কুরোদগমের সুবিধার জন্য একভাগ বালি মিশিয়ে হালকা করে নিতে হবে। মাটিকে শোধন করে জীবাণুমুক্ত করে নিয়ে চারাকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করা সহজ। সাধারণত এক লিটার ফরমালডিহাইড শতকরা ৪০ ভাগ ৪০ লিটার পানিতে মিশিয়ে এই দ্রবণের ২৫ লিটার প্রতি ঘন মিটার মাটিতে কয়েক কিস্তিতে ভিজিয়ে দিতে হয়। এরপর দু'দিন চটের কাপড় দিয়ে মাটি ঢেকে রেখে পরে চট উঠিয়ে দিলে মাটি জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে।

বীজ বপন ও সেচ:
আগের নিয়মে মাটি হালকা ঝুরঝুরে করে টবের উপরের ভাগ সমতল করতে হবে। খুব হালকাভাবে বীজ ছড়িয়ে দিতে হবে টবের ভেতর। এরপর জৈব সার দিয়ে বীজগুলোকে ঢেকে দিতে হবে। পানি দিতে হবে নিয়মিত ছোট ছোট ছিদ্রযুক্ত ঝাজরি দিয়ে। লক্ষ্য রাখতে হবে, পানির ঝাপটায় যাতে বীজের উপর জৈব সারের আবরণ সরে না যায়। যে সব বীজ আকারে ছোট সেগুলোর ক্ষেত্রে উপর দিয়ে পানি দিলে বীজগুলো পানির ধাক্কায় একস্থানে অঙ্কুরোদগমে ব্যঘাত ঘটতে পারে। তাই সব টবের উপর দিয়ে পানি না দিয়ে তলা দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করা উচিত।

পরিচর্যা:
অনেক সময় শাক-সবজির চারা, বিভিন্ন প্রকার পাখি, পিঁপড়া, মাকড়সা ইত্যাদি নষ্ট করে ফেলতে পারে। তার জন্য হেপ্টোক্লোর ৪০ পরিমাণ মত দিয়ে যাবতীয় পিঁপড়া ও মাকড়সার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করা যায়। তবে পাখির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে হলে টবের উপর তারের বা নাইলনের জাল দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় টবের মাটিতে বীজ বপনের আগে বিভিন্ন প্রকার আগাছা জন্মাতে পারে। আগাছাগুলো নিড়ানি দিয়ে খুঁচিয়ে তুলে ফেলে দিতে হবে। টবে চারা জন্মালে চারার গোড়ায় যেন আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, শাক-সবজি টবগুলোতে অবশ্যই আলো-বাতাস পায় এমন জায়গায় রাখা দরকার। তবে অতিরিক্ত ঝড়-বৃষ্টি-রোদ-তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য সাময়িকভাবে টব নিরাপদ স্থানে সরানো যেতে পারে।

সবজি সংগ্রহ:
সবজি সময় মত সংগ্রহ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সবজি বেশিদিন গাছে না রেখে বেশি পোক্ত না করে নরম থাকতেই তুলে খাওয়া ভাল। এতে করে একদিকে যেমন নরম খাওয়া যায় অন্যদিক গাছে আরও বেশি সবজি আসে। সবজি গাছ থেকে ছিঁড়ে সংগ্রহ করা যাবে না। আস্তে করে কেটে সংগ্রহ করতে হবে। তাহলে সবজি গাছের কোন ক্ষতি হবে না।

টবে সবজি আবাদের সুবিধা:
টবে সবজি আবাদের বিশেষ কয়েকটি সুবিধা রয়েছে। যেমন- প্রাকৃতিক দূযোর্গ, প্রচণ্ড গরম, অতিরিক্ত বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ঝড়-ঝঞ্ঝা ইত্যাদির কবল থেকে টবের সবজিকে রক্ষা করা যায় স্থানান-র করে। পশু-পাখির উপদ্রব থেকে বাঁচানো যায় জাল দিয়ে ঘিরে রেখে। সংসারের অব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পাত্র ও সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে আনা যায়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি অপব্যয় হয় না। নিজেরা তৈরি করে জৈব সার ব্যবহার করা যায় সবজিতে। ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এগুলো সাজিয়ে রাখা যায় ঘরের বিভিন্ন জায়গায়।
লেখক: বকুল হাসান খান
এগ্রোবাংলা ডটকম


চেতনাবার্তা.কমঃ
ডালিয়া, এ এক সর্বজন প্রিয় ফুল। অপরূপ লাবণ্যে ও বর্ণের প্রাচুর্যে মহিমান্বিত সুন্দর একটি ফুল হলো ডালিয়া। এর বৈজ্ঞানিক নাম Dahlia Variailis। ডালিয়া কম্পোজিটি পরিবারভুক্ত। এ ফুলের আদি বাসস্থান মেক্সিকোর গুয়াতেমালায়। লর্ডবুটি নামের এক ব্যক্তি স্পেন থেকে ডালিয়া ফুল প্রথমে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন। সেই ফুল দেখে সুইডেনের উদ্ভিদতত্ত্ববিদ আন্দ্রিয়াস গুস্তাভ ডাল নিজের নামের অনুকরণে ফুলের নাম রাখেন ডালিয়া।

শ্রেণিবিভাগ ও জাত : ডালিয়ার ১১টি শ্রেণীর আওতায় এর প্রচুর জাত রয়েছে। ডালিয়ার উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গল, স্টার, অ্যানেমিন ফাওয়ার্ড, কলারেট, পিওনি ফাওয়ার্ড, ফরমাল ডেকোরেটিভ, ইন ফরমাল ডেকোরেটিভ, ডবল শো ফ্যান্সি, পম্পন, রয়্যাল হোয়াইন, ক্যাকটাস, ভ্যারাইটি গার্ল প্রভৃতি।

মাটি ও জলবায়ু : সুনিষ্কাশিত উর্বর দোআঁশ মাটি বা বেলে দোআঁশ প্রকৃতির ঈষৎকার মাটি ডালিয়া চাষের জন্য উত্তম। ছায়াযুক্ত স্থানে গাছ দুর্বল ও লম্বা হয়, ফুল কম ও ছোট হয় এবং রঙের ঔজ্জ্বল্য হ্রাস পায়। ফলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় এমন জমিতে ডালিয়ার চাষ করতে হবে। ডালিয়া বৃপ্রেমীরা যারা চাষ করবেন তাদেরকে আবহাওয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যে দিন বৃষ্টি হবে সে দিন থেকে যত দিন পর্যন্ত মাটি স্যাঁতসেঁতে থাকবে তত দিন পানি দেয়ার দরকার নেই। আবার গরমের সময়ে মাটি যখন শুকনো হয়ে ওঠে তখন পানির পরিমাণ বাড়িয়ে মাটি আর্দ্র করে তুলতে হবে। কারণ ডালিয়াগাছের জন্য আর্দ্র মাটি প্রয়োজন। তবে মাটি বেশি ভিজে কাদাকাদা হয়ে গেলে তা গাছের পে তেমন উপকারী হবে না, টবের গাছের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থা করা উচিত। বৃষ্টির সময়ে গাছের ওপর ছাউনি দিতে পারলে ভালো কিংবা কোনো ছাউনির নিচে রাখলে গাছ নিরাপদে থাকবে। টবের গাছের ক্ষেত্রে প্রতিদিন নিয়ম করে পানি দিয়ে মাটিকে আর্দ্র রাখা উচিত।

বংশ বিস্তার : ডালিয়া বীজ, মূলজ কন্দ, ডাল কলম এবং ত্রেবিশেষে জোড় কলমের সাহায্যে বংশ বিস্তার করে। মূলজ কন্দ ও ডাল কলম থেকে চারা তৈরির পদ্ধতি হলো ডালিয়াগাছের গোড়ায় জন্মানো মূলজ কন্দ পরবর্তী বছর চারা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে ফুল শেষে গাছ নিস্তেজ হয়ে পাতা ও ডাঁটা শুকিয়ে আসলে কন্দ পরিপক্ব ও সংগ্রহ উপযোগী হয়। মাটির নিচ থেকে অত অবস্থায় কন্দ তুলে দু-এক দিন বাতাসে শুকিয়ে আলুর মতো শুষ্ক বালুতে সংরণ করতে হয়। অতঃপর ভাদ্র-আশ্বিন মাসে কন্দগুলোকে অর্ধেক মাটি ও অর্ধেক বালু মিশ্রিত বীজতলা বা টবে রোপণ করে সামান্য পানি সিঞ্চন করলে কয়েক দিনের মধ্যে কন্দের চোখ থেকে নতুন চারা বের হয়। চারা দুই থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার লম্বা হলে মূলজ কন্দটিকে চারাসহ কেটে টুকরো করে নির্ধারিত জমিতে বা টবে রোপণ করা চলে। অপর দিকে আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ মাসে ডালিয়ার ডাল কলম করা যায়। এ সময়ে মূলজ কন্দে জন্মানো কচি চারা বা ডাল থেকে গিটসহ কেটে বা ভেঙে নিতে হয়। তা ছাড়া পুষ্ট কন্দ বা কাণ্ডের পাশে জন্মানো ১৫-২০ সেন্টিমিটার লম্বা পুষ্ট ডাল ও গিটসহ সংগ্রহ করা চলে।

সার প্রয়োগ : বাংলাদেশের পরিবেশে আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত সময়ে জমিতে কিংবা টবে ডালিয়ার চারা রোপণ করা যায়। ডালিয়ার মাটি গভীরভাবে নরম ও ঝরঝরে করে তৈরি করতে হয়। প্রতি ১০০ বর্গ মিটার জমিতে ২০০ কেজি গোবর, তিন কেজি কাঠের ছাই ও দুই কেজি টিএসপি সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হয়। ভারী মাটিতে গোবরের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া উত্তম। টবে ডালিয়া চাষের জন্য ২ ভাগ দোআঁশ মাটি, ২ ভাগ বালি, ২ ভাগ কাঠের ছাই, ১ ভাগ পাতা পচা সার, ১ ভাগ গোবর, ১ ভাগ খৈল ও ১ ভাগ টি এস পি সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হয়।

চারা রোপণ ও পরিচর্যা : ডালিয়া চাষের জমিতে জাত ভেদে ৬০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার দূরত্বে সারিবদ্ধভাবে আর প্রতি টবে একটি চারা রোপণ করতে হয়। টবের আকার ২৫ সেন্টিমিটার হলে ভালো হয়। চারা লাগানোর পর থেকে গাছে এমনভাবে সেচ দিতে হয় যাতে কখনো পানির ঘাটতি না পড়ে ও জলাবদ্ধতা দেখা না দেয়। ডালিয়াগাছে সাধারণ রেড স্পাইডার ও রেড মাইভ ধরনের পোকা হয়। এই পোকা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় হলো প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে ক্যালিথিন বা নোবাকন নামে ওষুধের ২০ ফোঁটা এক লিটার পানিতে ভালো করে গুলিয়ে সেই মিশ্রণ দিয়ে ঝারির সাহায্যে গাছগুলোকে ভিজিয়ে দেয়া যায়, তাহলেই এ ধরনের পোকার আক্রমণ থেকে গাছকে রা করা সম্ভব হবে। ।
লেখক:হাসান মাহমুদ রিপন


চেতনাবার্তা.কমঃ বেবিকর্ন বা কচি ভুট্টা এক ধরনের উচ্চ ফলনশীল জাতের ভুট্টা। বাংলাদেশে বর্তমানে এই জাতের ভুটার চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এটি একাধারে একটি পুষ্টিকর ও লাভজনক ফসল। বলে রাখা ভাল যে, এই জাতের ভুট্টা কচি অবস্থায় সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দেশে প্রতিদিন ৩-৪ টন বেবিকর্ন ব্যবহার হচ্ছে। চাইনিজ রেস্টুরেন্টে, পাঁচতারা হোটেলে, ফাষ্টফুড এমনকি অভিজাত বাসাবাড়িতে বেবিকর্নের ব্যবহার বেশি। বলাবাহুল্য, আমাদের উৎপাদিত ভুট্টা থেকে এই ভুট্টার চাষাবাদ ও বীজ সম্পূর্ণ আলাদা। বিশেষ করে থাইল্যান্ড থেকে এই বীজ সংগ্রহ করে চাষাবাদ করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ব্যাপকভাবে বেবিকর্নের ব্যবহার হচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশে বেবিকর্নের উৎপাদন হলেও থাইল্যান্ড উৎপাদনের দিক থেকে শীর্ষস্থানে রয়েছে।

চাষ পদ্ধতি:
আমাদের দেশেও ব্যাপক আকারে বেবিকর্নের চাষ সম্ভব। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বেবিকর্ন চাষ করলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসলে রূপান-রিত হতে পারে। এর চাষ পদ্ধতি নিম্মরূপ-

বীজের পরিমাণ:
মাটির প্রকৃতির উপর বীজের পরিমাণ নির্ভর করবে। তবে মাটি রসালো ও ঝরঝরে হলে প্রতি বিঘা জমিতে ৫-৬ কেজি বীজই যথেষ্ট। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ১২ মাসই বেবিকর্ন চাষ করা যায় তবে অত্যাধিক বৃষ্টিতে বীজ বপন না করাই ভাল। কারণ এতে বীজ পচে যেতে পারে।

বেবিকর্নের বীজ সারিবদ্ধভাবে বপন করা ভাল। কারণ পরবর্তী বেবিকর্নের পুরুষ ফুল তোলার জন্য দুই সারির মাঝখানে যাতায়াত করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ ইঞ্চি ও বীজ থেকে বীজের দূরত্ব ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি।

সারের প্রয়োগ:
গোবর প্রতি বিঘাতে ৫০ কেজি, ইউরিয়া ৭৫কেজি, টিএসপি ৪০ কেজি, এমপি ৪০কেজি, জিপসাম ২৫ কেজি দিতে হবে।

আগাছা দমন:
বীজ বপনের পর থেকে ১ মাস পর্যন- জমিতে যাতে আগাছা না তাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ আগাছার সাথে প্রতিযোগিতা করে বেবিকর্নের গাছ খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না।

সেচ ব্যবস্থা:
মাটির অবস্থা ভেদে পানির পরিমাণ নির্ভর করবে। চারা গজানো ও গাছে মোচা আসার সময় মাটিতে পর্যাপ্ত রস থাকা দরকার।

পুরুষ ফুল ভাঙ্গা:
বেবিকর্ন চাষের প্রধান কাজ হল পুরুষ ফুল ভাঙ্গা। সব ফসলের বেলায় যেমন পরাগায়ণ দরকার হয় কিন্তু বেবিকর্নের বেলায় সেটা দরকার হয় না। গাছের বয়স যখন ৪০-৪৫ দিন বয়স হবে তখন প্রতি গাছে পুরুষ ফুল আসে অর্থাৎ শীর্ষ পাতার মাঝ বরাবর পুরুষ ফুলের মোচা দেখা যায়। এই মোচাগুলো ফুল ফোটার আগেই তুলে দিতে হয়। পুরুষ ফুল তোলা না হলে এটা ছোট ছোট ভু্ট্টায় পরিনত হয়ে যাবে। তাই বেবিকর্নের জমিতে কোন অবস্থাতেই পুরুষ ফুল থাকতে পারবে না।

রোগ-বালাই:
বেবিকর্ন চাষে তেমন কোন রোগ-বালাই দেখা যায় না। তবে কখনও কখনও এই গাছের পাতা জলসে যেতে পারে। আর এই জলসানো থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ২৫০ইসি ২.৫ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর সপ্রে করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ:
বীজ বপনের ৬০ থেকে ৭০ দিন পর ফসল সংগ্রহ শুরু হয় তবে এই সময় একটু বেশি লাগতে পারে। সমস- ফসল সংগ্রহ করতে ১২ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। বেবিকর্নের মোচার সিল্কা যখন ২ ইঞ্চি পরিমাণ লম্ব হবে তখনই এটা সংগ্রহ করা উত্তম, তা না হলে বেবিকর্নের মান নষ্ট হতে পারে।

উৎপাদন:
প্রতিবিঘা জমিতে ১টন থেকে ১২০০ জেজি বেবিকর্ন উৎপাদন হতে পারে। প্রতিটি বেবিকর্নের মূল্য দুই টাকা হলে এবং প্রতি কেজি বেবিকর্নের ১৫ থেকে ২০টি হলে বিঘাপ্রতি ৩০,০০০ টাকা বেবিকর্ন বিক্রি করা সম্ভব। সব খরচ বাদ দিয়েও আড়াই মাসে ১বিঘা জমি থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এ ফসল দুই মাসের মধ্যেই শেষ হয়। ফসলের অবশিষ্ট অংশ জ্বালানী এবং পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

খাদ্য হিসেবে বেবিকর্ন- কাঁচা বেবিকর্ন সূ্যপ, ভাজি, তরকারি, সালাদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

বেকার সমস্যা সমাধানে আমাদের কৃষিপ্রধান এই দেশে বেবিকর্নের চাষাবাদ করে অনেকেই সাবলম্বী হতে পারে।

লেখক: জাহাঙ্গীর আলম
তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


সদর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় বগুড়া সদর উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে করতোয়া নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে মাছের পোনা অবমুক্ত করণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন বগুড়া জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুফিয়া নাজিম (শিা ও আইসিপি), সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর তালুকদার হেনা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানা আকতার জাহান, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রওশনারা বেগম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ ফজলে এলাহী, আবু আসাদুজ্জামান, আকতারুজ্জামান, আরিফ আহম্মেদ সহ জেলা ও উপজেলা অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।


সদর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ শুক্রবার বিকালে বগুড়া সদর উপজেলা ফাঁপোড় ইউনিয়নের শহর দিঘী যুব উন্নয়  ক্লাব ও প্রগতি শিক্ষা কেন্দ্রের আয়োজনে বিনামূল্যে বৃক্ষ চারা বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অত্র কাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপাতি প্রভাষক রুবেল উদ্দিনের সভাপতিত্বে¡ প্রধান অতিথি হিসাবে গাছের চারা বিতরণ করেন সাবেক সভাপতি প্রভাষক সাইফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্লবের সভাপতি প্রভাষক আব্দুল হান্নান , সহ সভাপতি আবু জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক আঃ ছালাম সিকদার, সহ সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম , সাংগঠনিকব সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ  কোষাধ্যক্ষ আঃ সোবাহান সদস্য নিরব, ফরহাদ,  তোফাজ্জল হোসেন, আরিফুল, ছেলিম, মিয়া, সাজেদুল , আমিনুর, প্রমুখ।

শিবগঞ্জ(বগুড়া) প্রতিনিধিঃ কৃষি প্রধান বাংলাদেশ। এদেশের বেশির ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভর করলেও বর্তমান কৃষকেরা হুমকির মুখে।
কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষকের হায় হায় অবস্থা। মাথায় হাত দিয়ে একজন কৃষক যা বলল হামরা করম কি একন, জমিত যা খরচ করচি তা উটপি কেমনে। ওষুধ সারের টেকা দেমু ক্যামনে।  কৃষক্ষেত্রে এমন অবস্থা হলে কৃষকেরা জমিতে ফসল ফলাতে হিমসিম খাবে। কোল্ড ষ্টোর গুলোতেও রাখা আলু তুলতে যাচ্ছে না কৃষকেরা। ফলে কোল্ড ষ্টোর মালিকেরা মাইক দিয়ে প্রচার করে ৪০ টাকা বস্তা দরে বিক্রি করছে আলু। নতুন আলুর দাম কম থাকায় কোল্ড ষ্টোরের পুরাতন আলু সস্তা দামেও বিক্রি হচ্ছে না। বিপাকে পড়েছে কোল্ড ষ্টোর মালিকেরাও। উত্তর  বঙ্গ তথা বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, জয়পুর হাট, গাইবান্ধা অঞ্চলকে বলা হয় শস্য ভান্ডার। এখান থেকে কৃষি পণ্য দক্ষিণ অঞ্চলে গিয়ে খাদ্য ঘাটতি মেটায়। এভাবে কৃষকরা মারমুখী হলে চাষাবাদ না করলে দেশে আরোও খাদ্য ঘাটতি দেখা দিবে। এমন অবস্থায় কৃষকদের ভাস্য তাদের ন্যায্য মূল্য যেন ফিরে পায় তা না হলে তারা যাবে কোথায়। 



চেতনা বার্তা ডেস্কঃ দেশে প্রথমবারের মতো ব্রয়লার মুরগি উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। এতে বিদেশী ব্রয়লার আমদানিতে ব্যয় হওয়া প্রায় ৯০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। 
দুই দশক ধরে বাংলাদেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে ব্রয়লার মুরগি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, যা পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। প্রতি বছর ব্রয়লার মুরগির প্যারেন্ট বা গ্র্যান্ডপ্যারেন্ট আমদানি করতে ব্যয় হয় প্রায় ৯০ কোটি টাকা। আমদানি করা ব্রয়লার দেশের আবহাওয়ার সাথে খাপ খায় না বলে রোগ বেশি হয় এবং উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। এ ছাড়া প্রচলিত ব্রয়লারের গোশত নরম ও দেশী মুরগির মতো সুস্বাদু না হওয়ায় অনেকে পছন্দ করেন না।
ব্রয়লার মুরগির আমদানিনির্ভরতা কমাতে ও সুস্বাদু গোশতের দ্রুত বর্ধনশীল উন্নত জাতের ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের ল্েয দেশে প্রাপ্ত মুরগির জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উন্নতমানের সুস্বাদু ব্রয়লার মুরগির দু’টি (সাদা ও রঙিন) জাত (স্ট্রেইন) উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল পোলট্রি গবেষক। উদ্ভাবিত জাত দু’টির নাম রাখা হয়েছে বাউ- ব্রো হোয়াইট ও বাউ- ব্রো কালার। বৃহস্পতিবার নতুন উদ্ভাবিত ব্রয়লার মুরগির জাত দু’টির উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী ও সহযোগী অধ্যাপক ড. বজলুর রহমান মোল্যা সেমিনারে এসব তথ্য জানান। 
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অর্থায়নে চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের আওতায় এ জাত দু’টি উদ্ভাবন করা হয়। গবেষণার ফলাফল তুলে ধরতে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: রফিকুল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে বাউরেস পরিচালক ড. লুৎফুল হাসান, বিএআরসির সদস্য পরিচালক মো: খাইরুল বাশার উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আশরাফ আলী। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মো: সুলতান উদ্দীন ভূঞা, পশুপালন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. আলী আকবর, বিএআরসির মুখ্য গবেষক ড. জিকরুল হক চৌধুরী প্রমুখ। গবেষণার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (লিয়েন) গোলাম আজম।

Chetona Barta

{facebook#http://www.facebook.com/ChetonaBarta}

Md. Rashaduzzaman

{facebook#http://www.facebook.com/rashaduzzaman777} {twitter#http://twitter.com/rashaduzzaman} {google-plus#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {pinterest#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {youtube#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {instagram#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL}

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget